Hazrat Umar (ra.): Biography

Islamic Women

Photo News লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Photo News লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০১৩

ডাঃ মোহাম্মদ বেলতাগির শহীদ মেয়ের প্রতি পত্র

ডাঃ মোহাম্মদ বেলতাগির শহীদ মেয়ের প্রতি পত্র


আসমা বেলতাগী!! মুসলিম ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক শাখার জেনারেল সেক্রেটারী মোহাম্মাদ বেলতাগীর ১৭ বছর বয়সী একমাত্র মেয়ে যিনি হায়েনার বুলেটের আঘাতে ঐতিহাসিক রাবেয়া স্কয়ারে শাহাদাত বরণ করেছেন।প্রিয় কন্যাকে উদ্দেশ্য করে বাবা মোহাম্মাদ বেলতাগীর চিটি...


আমার প্রিয় মা আসমা,
তোমার মৃত্যুর পরেও আমি তোমাকে বিদায় জানাবোনা। তোমাকে শেষ বিদায় জানাবোনা কারণ তোমার সাথে বাবার আবার দেখা হবে। দেখা হবেই ভবিষ্যতে ইনশাল্লাহ। দেখা হবে জান্নাতে।
মা আমার, তুমি বেঁচে ছিলে তোমার শির উচু করে। সেই উচু শিরের নীচে চাপা পড়ে গিয়েছিলো স্বৈরতন্ত্রের ধারক বাহকেরা।তুমি ছিলে এক নীরব বিপ্লবী যে কিনা নতুন এক প্রভাতের স্বপ্ন দেখতো। তুমি স্বপ্ন দেখতে নতুন এক মিশরের যা কিনা ইসলামের উপর দাঁড়িয়ে থাকবে অনন্ত কাল ধরে।

সমবয়সীদের মতো, আর কয়েকটা ছেলে মেয়ের মতো, তোমার চাওয়া পাওয়া ছিলোনা। তোমার চাওয়া পাওয়া সবসময়ই ছিল ভিন্ন। ক্লাসে প্রথম স্থানটা সবসময় তোমারই ছিলো।

বাবার এ ব্যস্থ জীবনে তোমাকে আমি খুব বেশী সময় দিতে পারিনি।তোমার সাথে বাবার খুব একটা বসা হয়ে উঠেনি। কারণ, আল্লাহ্‌ আমাকে ব্যস্ত রেখেছেন তাঁর কাজের জন্য। তোমার সাথে আমার শেষ দেখা হয় রাবা আল আদাওইয়া স্কয়ারে। তুমি আমাকে বলেছিলে ‘বাবা, আমাদের সাথে থাকলেও তোমাকে সব সময় ব্যস্তই দেখি। আমাদের জন্য কি কিছু সময় হবেনা?’ জবাবে আমি বলেছিলাম ‘এ ছোট্ট জীবনটা মনে হয় আমাদের দেখা সাক্ষাতের জন্য বা কিছু স্নেহের মুহূর্ত কাটানোর জন্য খুব কম। তাই আল্লাহ্‌র কাছে দোয়া করি বেহেস্তে যেন আমাদের দেখা হয় যেখানে সময় হবে অফুরন্ত’।

তোমার শাহাদাতের দুদিন আগের ঘটনা। স্বপ্নে দেখি তুমি ধবধবে সাদা বিয়ের ড্রেস পরে আছো। সফেদ ড্রেসে তোমাকে খুব সুন্দর লাগছিলো। তুমি যখন আমার পাশে বসলে আমি জিজ্ঞেস করলাম ‘ আজ কি তোমার বিয়ের রাত?’ তুমি হেসে জবাব দিলে ‘ না বাবা, এটা রাত নয়। এখন বিকেল’। আমাকে যখন বলা হলো বুধবার বিকেলে রাবা স্কয়ারে তুমি শাহাদাত বরণ করেছো, আমি বুঝলাম কেনো সেদিন তুমি বলেছিলে এটাতো রাত নয়, বিকেল’। এখন আমার দৃঢ় বিশ্বাস আল্লাহর দরবারে তুমি শহীদ হিসেবে কবুল হয়েছো।

আমি তোমার জানাজায় শরীক হতে পারিনি।সে এক অব্যক্ত কষ্ট ও কান্না। আমি তোমার মুখ শেষবারের মতো জানাজা শেষে দেখতে পাইনি।কপালে শেষ চুমু দেয়ার সুযোগ আমি পাইনি।বড় ইচ্ছে ছিলো তোমাকে বলি ‘আসমা, বিপ্লব শেষ হয়নি। শুরু মাত্র।আমরা হয় জিতবো অথবা তোমার মতো শহীদ হবো।

তোমার শরীর এবং আত্মা এখন অনেক উঁচুতে। অনেক উঁচুতে। ফেরাউনের বংশধরেরা বুলেট দিয়ে তোমাকে হত্যা করেছে। কিন্তু তোমার আত্মাকে তারা হত্যা করতে পারেনি। আমার বিশ্বাস মহান আল্লাহ তোমার আত্মাকে অনেক সম্মানিত করেছেন।

মা আমার,
আমি তোমাকে চিরবিদায় দেবোনা। তবে বিদায়। দেখা হবে ওপারে। আল্লাহর অসীম ভালোবাসা আর দয়ায় তোমার সাথে দেখা হবে বাবার জান্নাতে ইনশাল্লাহ। আপাতত এ ধুসর পৃথিবী থেকে বিদায়।

মূল চিঠি এখানে-- http://www.middleeastmonitor.com/news/africa/7007-letter-from-dr-mohamed-beltaji-to-his-martyred-daughter

Letter from Dr Mohamed Beltagy to his martyred daughter

Letter from Dr Mohamed Beltagy to his martyred daughter

Asmaa Beltagy Beltaji
17 year old Asma Beltaji was the beloved daughter of Mohamed Beltaji, one of Egypt's first ever democratically elected leaders. She was shot and killed by the Egyptian security forces
Below is a translation of the original letter:
My beloved daughter and dignified teacher Asma al-Beltaji; I do not say goodbye to you; I say tomorrow we shall meet again.
You have lived with your head held high, rebellious against tyranny and shackles and loving freedom. You have lived as a silent seeker of new horizons to rebuild this nation to assume its place among civilizations.
You never occupied yourself with what preoccupies those of your age. Even though traditional studies failed to fulfil your aspirations and interest; you have always been the first in your class.
I have not had enough of your precious company in this short life, especially that my time did not allow me to enjoy your companionship. The last time we sat together at Rabaa Al Adawiya square you asked me "even when you are with us you are busy" and I told you "it seems that this life will not be enough to enjoy each other's company so I pray to God that we enjoy our companionship in paradise."
Two nights before you were murdered I saw you in my dream in a white wedding dress and you were an icon of beauty. When you lay next to me I asked you "Is it your wedding night?" You answered, "It is in the noon not the evening". When they told me you were murdered on Wednesday afternoon I understood what you meant and I knew God had accepted your soul as a martyr. You strengthened my belief that we are on the truth and our enemy is on falsehood.
It caused me severe pain not to be at your last farewell and see you for the last time; not to kiss your forehead; and not be honoured to lead your funeral prayer. I swear to God, my darling I was not afraid for my life or from an unjust prison, but I wanted to carry the message you scarified your soul for; to complete the revolution, to win and achieve its objectives.
Your soul has been elevated with your head held high resisting the tyrants. The treacherous bullets have hit you in the chest. What spectacularly determined and pure soul. I am confident that you were honest to God and He has chosen you among us to honour you with sacrifice.
Finally, my beloved daughter and dignified teacher:
I do not say goodbye, but I say farewell. We shall meet soon with our beloved Prophet and his companions in Heaven where our wish to enjoy each other's company and our loved ones' company will come true.

সোমবার, ১৫ জুলাই, ২০১৩

মানবতাবিরোধী অপরাধে গোলাম আযমের ৯০ বছরের কারাদন্ড

 মানবতাবিরোধী অপরাধে গোলাম আযমের ৯০ বছরের কারাদন্ড

মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের ৯০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-সোমবার বেলা ১টা ৪৫ মিনিটে চেয়ারম্যান বিচারক এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় দেন। এদিকে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আনা ৫ অভিযোগের মধ্যে ষড়যন্ত্র, সহযোগিতা, সম্পৃক্ততা ও হত্যা-নির্যাতনসহ সব কটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। অভিযোগে কুমিল্লার হোমনা থানার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের সিরু মিয়াসহ ৫ জনকে হত্যার অভিযোগ প্রমাণ পায় ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে সকাল ১০টার কিছু আগে বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর, আনোয়ারুল হক ও জাহাঙ্গীর আলম ট্রাইব্যুনালে প্রবেশ করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে বেলা ১১টায় গোলাম আযমের মামলার রায় পড়া শুরু হয়। ট্রাইব্যুনাল-১ এর প্রধান বিচারক এটিএম ফজলে কবীর সকাল ১০টা ৮ মিনিটে রায়ের ভূমিকা পড়েন। এরপর ২৪৩ পৃষ্ঠা রায়ের ৭৫ পৃষ্ঠার সারসংক্ষেপ পড়া শুরু করেন বিচারপতি আনোয়ার-উল হক।
এদিকে সকাল ১০টায় গোলাম আযমকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে একটি অ্যাম্বুলন্সে করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের পরিদর্শক আব্দুল হাইয়ের নেতৃত্বে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনির মধ্য দিয়ে তাকে নিয়ে আসা হয় ট্রাইব্যুনালে।
এরপর সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষে আনা হয় গোলাম আযমকে। এসময় তাকে আসামির কাঠগড়ায় একটি হুইল চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়। তার পরনে ছিল সাদা ও হালকা নীল রঙের চেক লুঙ্গি এবং পাঞ্জাবি, মাথায় টুপি।
জামায়াতে ইসলামীর মুক্তিযুদ্ধকালীন আমির গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র, উসকানি, পাকিস্তানি সেনাদের সাহায্য করা এবং হত্যা-নির্যাতনে বাধা না দেওয়ার ৫ ধরনের অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগের আওতায় মোট ৬১টি অপরাধের জন্যে গোলাম আযমকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে গত ২১ জানুয়ারি প্রথম রায়ে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। এরপর ৫ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় আসে। এছাড়া ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ও গত ৯ মে জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়।

শুক্রবার, ২৪ মে, ২০১৩

বারমুডা ট্রায়াঙ্গল রহস্য: শেষ কোথায় ?  


যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা, বাহামা দ্বীপ এবং ক্যরিবীয়ান দ্বীপ এই তিনটি স্থানকে নিয়ে যে ত্রিভুজাকার এলাকা পাওয়া যায় সেটাই বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল। বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল এর রহস্যময়তার জন্য সবার কাছেই কম বেশী পরিচিত। যেসব রহস্যময় ঘটনা বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলকে ঘিরে শোনা যায় সেগুলো হল:

১. বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে প্রায়শ:ই নৌযান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে নিশ্চিন্থ হয়ে যায়।\
২. বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের উপর দিয়ে বিমান উড়ে গেলে তার আর হদিস পাওয়া যায় না।
৩. এই এলাকায় কম্পাসের কাঁটা এলোমেলো দিক নির্দেশনা দেয়।
৪. বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে যেসব মানুষ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন তাদের সাথে শেষবার যোগাযোগের সময় অদ্ভুৎ আচরন করেছেন বা কথাবার্তা বলেছেন এবং অতঃপর সম্পূর্ণ নিশ্চিন্থ হয়ে গেছেন।
৫. মাঝে মাঝে সময় এবং অবস্থান উল্টা-পাল্টা হয়ে যায়। একজন পাইলট নাকি আকস্মিকভাবে দুই ঘন্টার পথ চোখের নিমেষে পাড়ি দিয়ে ফেলেছেন।

প্রথমবার বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে অস্বাভাবিকভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা উপলব্ধি করা হয় ১৯৫০ সালের ১৬ ই সেপ্টেম্বর। এর দুই বছর পর আবারো fate নামের একটি ম্যাগাজিনে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের অস্বাভাবিক দুর্ঘটনা নিয়ে একটি প্রবন্ধ লেখা হয়। সেখানে ট্রায়াঙ্গেল এলাকায় নিখোজ হওয়া বেশ কিছু বিমান ও জাহাজের উল্লেখ করা হয়। সেখানে সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া ইউএস নেভীর প্রশিক্ষণ বিমানের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার বর্ণনা ছিল। রেডিওতে পাইলটদের সাথে যোগাযোগের সময় তাদের কথাবার্তা বেশ রহস্যময় মনে হয়েছে। তারা নাকি বলছিলেন: “সাদা পানিতে ডুবে যাচ্ছি।” একটু পরেই বলতে শোনা গেলো “সবুজ পানিতে ডুবে যাচ্ছি।” তার কিছুক্ষণ পরে বলছিলেন “মঙ্গলে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।” মূলত এই প্রবন্ধটিই প্রথম বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের দুর্ঘটনা অলৌকিক হিসেবে বর্ণনা করে।

১৯৬৪ সালে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের দুর্ঘটনাগুলোর রহস্যময়তা বর্ণনা করে প্রথমবারের মত বই লেখা হয়। যার নাম Invisible Horizones. বইটির লেখক ছিলেন Vincent Gaddis. এর পরে বারমুডাকে নিয়ে একের পর এক বই লেখা হতে থাকে। কেউ বলেন: বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের বিমান ও জাহাজগুলো মহাজাগতিক জীবের আক্রমনের শিকার। কেউ আবার বলেন প্রাচীন লেখকদের লেখায় যে ‘আটলান্টিস’ নামক শহরের বর্ণনা পাওয়া যায় সেই শহরটি বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের ভিতরেই কোথাও ডুবে আছে। সেই শহরেরই কোন প্রযুক্তিগত প্রভাবে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে থাকে। আরেকজন বললেন যেহেতু কম্পাস ঠিকমত পাঠ দেয় না, তারমানে বারমুডার কোথাও শক্তিশালী কোন চুম্বক আছে। যার প্রবল আকর্ষণে দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে। কেউ কেউ আবার এর মধ্যে ওয়ার্ম হোলের অস্তিত্ব আবিষ্কার করলেন। কেউ এর মধ্যে স্থান-কালের বক্রতাও টেনে নিয়ে এলেন। এই সবগুলো বই লেখা হয়েছিল ১৯৬৪ থেকে ১৯৭৪ এর মধ্যে।

এরপর ১৯৭৫ সালে লরেঞ্জ ডেভিড কুশে নামের এক লাইব্রেরিয়ান কয়েকবছরের সংবাদ পত্র ঘেটে এবং সব দুর্ঘটনার খবর অনুসন্ধান করে The Bermuda Triangle Mystery: Solved নামের একটি বই লিখলেন এবং দেখিয়ে দিলেন বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের নামে যত রহস্যময়তা এবং তত্ত্ব বর্ণনা করা হয়েছে তার সবই হয় অতিরঞ্জিত, সন্দেহমূলক কিংবা প্রমাণহীন। কুশের গবেষণা দেখিয়ে দিল যে অধিকাংশ ঘটনার বর্ণনা, সক্ষীর বর্ণনা, পর্যবেক্ষকদের বর্ণনা সামঞ্জস্যহীন। তিনি দেখলেন আগে যে ঘটনাগুলোকে সম্পূর্ন নিখোঁজ বলা হয়েছিলো সেগুলোর বর্ণনাও পত্র-পত্রিকায় পাওয়া যাচ্ছে। এবং তিনি আরো দেখতে পেলেন যে অনেক ঘটনাই ঘটেছে এই এলাকার বাইরে যেগুলোকে ইতিপূর্বে এই এলাকার সাথে সম্পৃক্ত দেখানো হয়েছে। তার গবেষনা ছিলো অত্যন্ত সরল প্রকৃতির এবং তিনি পত্রপত্রিকা ঘেটেই বারমুডা রহস্য উদঘাটন করেন। পরিশেষে তিনি এই উপসংহারে আসেন যে,

১. দুঘটনা কবলিত জাহাজ এবং উড়োজাহাজের সংখ্যা অতিরঞ্জিত করে প্রকাশ করা হয়েছিল।

২. এটা এমন একটি এলাকা যেখানে প্রতিনিয়ত মৌসুমী ঝড় বহমান। এবং ঝড়ের সাথে দুর্ঘটনার সংখ্যা তুলনা করলে সেটা যথেষ্ট বাস্তব-সম্মত মনে হয়।

৩. বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল এলাকাটি অত্যন্ত ব্যস্ত নৌ-পথ। ব্যস্ততা তুলনা করলে এখানে ঘটা দুর্ঘটনার সংখ্যা সমুদ্রের অন্যান্য এলাকায় ঘটা দুর্ঘটনার সাথে সমতুল্য।

৪. ব্যস্ত নৌপথ হওয়ায় এখানে প্রচুর জলদস্যুর আনাগোনা ছিল। এরা সাধারণত ছোটখাটো জাহাজে লুটপাট চালিয়ে সেগুলোকে ডুবিয়ে দিত।

৫. অনেকসময় খবর আংশিকভাবে প্রকাশ করা হত। কোন জাহাজ বা প্লেনের নিখোঁজ হওযার খবর প্রচার হত। কিন্তু ফিরে আসার খবর প্রচার হত না।

কুশের বইটি প্রকাশের পর সবার টনক নড়ে এবং আরো যা পাওয়া যায়:

৬. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই এলাকায় প্রচুর সাবমেরিন মোতায়েন হয়। এদের আক্রমনে যেসব জাহাজ ও প্লেন ডুবি হত সেগুলো সামরিক কর্তৃপক্ষ গোপন রাখত।

৭. এই এলাকার নীচ থেকে প্রচুর মিথেন গ্যাস নির্গত হয় যা পানির সাথে মিশে হাইড্রেটেড মিথেন তৈরি করে। এই হাইড্রেটেড মিথেন বেশ হালকা। একারনে কিছু কিছু ভারী জাহাজ পানিতে ডুবে যায়।

৮. মেক্সিকান উপসাগরীয় প্রবল স্রোতে(এই স্রোতটি অনেকটা নদীর মত) অনেক দুর্ঘটনা কবলিত যান দুরে ভেসে যায়।

৯. কম্পাসের ব্যপারে তথ্য হল পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানেই কম্পাসের বিক্ষেপের ভিন্নতা দেখা যায় যেহেতু পৃথিবীর ভৌগলিক মেরু এবং চৌম্বকীয় মেরু এক নয়। খুব অল্প কিছু যায়গায় অবস্থানকালে একই দুই মেরু একই দিকে থাকে এবং কম্পাস সঠিক দিক নির্দেশ করে। অন্যত্র কম্পাস চৌম্বকমেরুর দিক নির্দেশ করে।

১০. মানুষের ভুলেও অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ইউএস নেভীর তথ্য থেকে জানা যায়।

এসবের বাইরেও কথা আছে। বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের রহস্যময়তার সুযোগে কিছু কিছু কোম্পানী তাদের অপেক্ষাকৃত পুরোনো জাহাজ বা বিমানগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে ডুবিয়ে দিয়ে বীমার টাকা আদায় করত বলেও শোনা যায়।

বুধবার, ১৫ মে, ২০১৩