Hazrat Umar (ra.): Biography

Islamic Women

সোমবার, ৩ জুন, ২০১৩


মঙ্গলে যেতে ৭৮ হাজারের বেশি আবেদন  


২০২৩ সাল নাগাদ মঙ্গলে বসবাস উপযোগী একটি মনুষ্য কলোনি গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। লাল গ্রহটিতে মানুষ পাঠানোর ঘোষণা দেয়ার পর প্রায় ৭৮ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে।
লোহিত এই গ্রহে যেতে পাড়ি দিতে হবে চার কোটি মাইলের মতো পথ। লাল এ গ্রহটির বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইড ৯৫ শতাংশ। তাপমাত্রা মাইনাস ১৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৫ ডিগ্রি পর্যন্ত। এমন পরিবেশে কীভাবে, কত দিন বাঁচা যাবে, তার ব্যাখ্যা খুঁজছেন না আবেদনকারীরা। তাছাড়া গ্রহটিতে পৌঁছতেও সময় লাগবে প্রায় সাত মাস।
এ সময়ে বিভিন্ন স্তরে মহাকর্ষ বলের পরিবর্তনের কারণে শরীরের ওপর যে ধকল যাবে, তাও কি মোকাবেলা করা সম্ভব? এ প্রশেুরও সঠিক উত্তর পাওয়া কঠিন। যারা যাবেন, তাদের সেখান থেকে আর পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে না- এটি জানানো হয়েছে অনেক আগেই।
মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও বসতি গড়তে মঙ্গল গ্রহে যেতে চাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। নেদারল্যান্ডসের জ্যোতির্বিজ্ঞানবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘মার্স ওয়ান’ এ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। মার্স ওয়ানের প্রকল্পে নির্বাচিত হয়ে মঙ্গলে যেতে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রাপ্ত থেকে আবেদন পড়েছে ৭৮ হাজারের বেশি।
আয়োজকদের ধারণা করছেন, সর্বশেষ তারিখ আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে আবেদন পড়বে পাঁচ লাখের মতো। তাদের মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে বাছাই করা হবে চারজনকে। এরপর ২০২২ সালে তাদের পাঠানো হবে মঙ্গলে। ২০২৩ সালে তারা সেখানে পৌঁছে শুরু করবেন কলোনি গড়ে তোলার কাজ। এমন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ২০৩৩ সালের মধ্যে পাঠানো হবে মোট ২০ জনকে।
মার্স ওয়ান কোম্পানির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ব্যাস ল্যান্সডরপ জানিয়েছেন, ১৮ বছরের বেশি বয়সী যে কেউ আবেদন করতে পারেন। আবেদনের জন্য নির্ধারণ ফি প্রার্থীর দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে। আবেদন ফি থেকে পাওয়া অর্থ ব্যয় করা হবে বাছাইয়ের জন্য রিয়েলিটি শো আয়োজনে। শো থেকে প্রাপ্ত অর্থ প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজে লাগানো হবে। দর্শকের ভোটসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় প্রথমে বেছে নেওয়া হবে ২৪ জনকে। এরপর দীর্ঘ ৮ বছর প্রশিক্ষণ দেয়ার পর তাদের মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে বেছে নেওয়া হবে ৪ জনকে।


মৌলিক কণা 

আধুনিক পদার্থবিদ্যার মুখ্য উদ্দেশ্য একটা প্রশ্নের সঠিক উত্তর খুজে বের করা তা হল এই মহাবিশ্ব কি দিয়ে তৈরি?”এছাড়াও আরও একটা প্রশ্নের সম্মুখীন বিজ্ঞানীরা হয়ে আসে তা হল পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা কি ?”এই সব প্রশ্নের তদন্তের লাইন অ্যা্রিস্টটল, ডেমোক্রিটাস, ডাল্টন এবং রাদারফোর্ড থেকে শুরু হয়ে এখনো চলতেছেআর সেই সাথে বিজ্ঞানের একটি শাখাও তৈরি হয়েছে যার নাম “Particle Physics বা কণা পদার্থবিজ্ঞানপ্রথমে মনে করা হত, পরমানুর কেন্দ্র একাধিক ইলেকট্রন এবং বিভিন্ন সংখ্যক পরাআধানযুক্ত কণিকার দ্বারা গঠিতএগুলোর নাম দেয়া হয়েছিল প্রোটনআসলে গ্রীক শব্দ প্রোটসের অর্থ প্রথমকারণ তখন বিশ্বাস ছিল এগুলোই বস্তু গঠনের মূলগত একককিন্তু ১৯৩২ সালে কেম্ব্রিজে রাদারফোর্ডের সহকর্মী জেমস চ্যাডউইক আবিষ্কার করলেন, কেন্দ্রে আরো একটি কণাও থাকে তার নাম নিউট্রনএর ভর প্রোটনের মতই কিন্তু এর কোন বৈদ্যুতিক আধান নেইকেন নিউট্রনের চার্জ নেই তা পরবর্তীতে দেখানো হবেআজ থেকে ত্রিশ বছর আগে পর্যন্ত মনে করা হত, প্রোটন ও নিউট্রনই মৌল কণাকিন্তু কতগুলো পরীক্ষায় প্রোটনের সঙ্গে প্রোটনের সংঘর্ষ ঘটানো হয়প্রোটনের এই পরীক্ষা থেকে নির্দেশ পাওয়া যায় আসলে এগুলোও ক্ষুদ্রত্ম কণা দ্বারা গঠিতক্যালটেক পদার্থবিদ মারে গেলম্যান এই কণাগুলোর নাম দেন কোয়ার্কএই নামের উৎপত্তি হয় জেমস জয়েসের একটা কবিতা “Three quarks for muster mark” থেকেকণা পদার্থবিজ্ঞানে মৌলিক কণা বা প্রাথমিক কণা হল সেসব কণা, যাদের ক্ষুদ্রতর কোন ভিত্তি বা গাঠনিক একক নেই, অর্থাৎ এরা কোন ক্ষুদ্রতর কণার সন্নিবেশে গঠিত হয়নিযদি কোন মৌলিক কণার প্রকৃতপক্ষেই কোন ক্ষুদ্রতর একক না থাকে তবে তাকে মহাবিশ্বের গাঠনিক একক হিসাবে বিবেচনা করা হয়, যা থেকে অন্য সব কণা তৈরি হয়েছেআদর্শ মডেলানুযায়ী কোয়ার্ক, লেপটন এবং গেজ বোসনকে মৌলিক কণিকা হিসাবে বিবেচনা করা হয়এখন আমাদের এই পরিচিত বিশ্বব্রক্ষান্ডের যত কণা আছে তাদের সবগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়এক ভাগের নাম ফারমিওন, অন্য ভাগের নাম বোজনপুরো বিশ্বব্রক্ষান্ড যেসব কণা দিয়ে তৈরি হয়েছে তার ভেতরে যেগুলো ফারমিওন সেগুলোকে বলা হয় বস্তুকণাযেগুলো বোজন সেগুলো এই বস্তুকণার ভেতরে বল বা শক্তির আদান প্রদান করেএখানে,
►    ফার্মিয়ান কণা , এই কণাগুলো ফার্মি-ডিরাক সংখ্যায়ন মেনে চলে
►    বোসন কণা , এই কণাগুলো বোস-আইনস্টাইন সংখ্যায়ন মেনে চলে
এদিকে, “Particle Physics বা কণা পদার্থবিদ্যায় হ্যাড্রন (Hadron) হচ্ছে এক ধরণের যৌগিক কণা বা কম্পোজিট পার্টিকেল, যা কোয়ার্ক দিয়ে গঠিততড়িৎচুম্বকীয় শক্তির সাহায্যে যেভাবে অণু ও পরমাণুসমূহ পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে, তেমনি কোয়ার্কও পরস্পরের সাথে দৃঢ় শক্তির সাহায্যে সংবদ্ধ থাকে

 সন্ত্রাস বিরোধী আইন (সংশোধন) বিল সংসদে 



সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) বিল-২০১৩’ সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। বিলটিতে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ধ্বংসকে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে। সোমবার  জাতীয় সংসদে ‘সন্ত্রাস বিরোধী আইন-২০০৯’ এর সংশোধনে বিলটি উত্থাপন করা হয়। রাতে সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দেয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠান স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ।
বিলে জাতিসংঘের সমকালীন বিভিন্ন রেজুলেশন ও কনভেনশন এবং আন্ত:রাষ্ট্রীয় আলোচনার আলোকে আন্ত:রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসকে সজ্ঞায়ন ও আইনকে আরো যুগোপযোগী করা হয়েছে।


বলা হয়েছে, সমগ্র বাংলাদেশের পাশাপাশি বাংলাদেশে নিবন্ধিত জাহাজ বা বিমানে অবস্থানকারীর ক্ষেত্রেও এই আইন প্রযোজ্য হবে। বিলে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে অর্থায়ন প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে মন্ত্রী বলেন, “জাতিসংঘের সমকালীন বিভিন্ন রেজুলেশন ও কনভেনশন এবং আন্ত:রাষ্ট্রীয় আলোচনার আলোকে সন্ত্রাস বিরোধী আইন অধিকতর সংশোধনের প্রয়োজনে বিলটি উত্থাপন করা হলো।
বিলে বিদ্যমান আইনের ধারা ১১’র পরিবর্তে অপরাধ সংঘটনের প্রচেষ্টা শাস্তির বিধান সম্বলিত নতুন ১১ ধারা প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে বিলে অপরাধ সংঘটনের সাহায্য ও সহায়তার অপরাধে শাস্তির সুনির্দিষ্ট বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিলে সন্ত্রাস কার্যে অর্থায়ন বিষয়ে তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে সুনির্দিষ্ট বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যেকোনো ব্যক্তি বা সত্তাকে তফসিলে তালিকাভুক্ত করতে বা তফসিল হতে বাদ দিতে পারবে অথবা অন্য কোনভাবে তফসিল সংশোধন করতে পারবে।

বিলে বিদ্যমান আইনে ২০ক ধারার পরিবর্তে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন বাস্তবায়নে পদক্ষেপ শীর্ষক নতুন ২০ক ধারা সন্নিবেশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বীকারোক্তি রেকর্ড সম্পর্কিত বিশেষ বিধান, তদন্তকালীন সন্ত্রাসী সম্পত্তি জব্দ বা ক্রোকের বা বিশেষ বিধান এ বিলে সংযোজন করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

শনিবার, ১ জুন, ২০১৩


Bashar al-Assad vows to complete purchase of advanced Russian S-300 missiles. 



BEIRUT — Syrian President Bashar al-Assad vowed Thursday to press ahead with plans to receive long-range air defense missiles from Russia, while the main Syrian opposition group said it would not participate in peace talks in Geneva, further dampening prospects for a U.S.-backed effort to end the two-year-old conflict.
The Syrian Opposition Coalition, meeting in Istanbul, said it would not attend the proposed talks while militants from Iran and the Lebanese Shiite movement Hezbollah continue to back Assad’s forces. The announcement is a setback for the United States, which has been leading efforts to get the fractured Syrian opposition to the negotiating table. However, the coalition bowed to Western pressure to broaden its ranks, expanding the 71-seat assembly by adding 43 new members, including 15 representatives of the Free Syrian Army.
Russian, U.S. and U.N. officials are scheduled to meet Wednesday for a last-ditch effort to bring the warring sides in Syria together for talks. White House spokesman Josh Earnest said Thursday that the United States would continue to work “aggressively” to organize the Geneva talks.
Assad said Thursday that his government was willing to attend the Geneva talks but that any decision taken there would be implemented only after a vote by the Syrian people.
But there is little incentive for the Syrian leader to engage meaningfully in negotiations. His regime has made slow but meaningful gains in recent weeks, and hisforces are advancing in the town of Qusair,backed by Hezbollah fighters

“We are confident and sure about victory, and I confirm that Syria will stay as it was,” Assad said in an interview with al-Manar television, a mouthpiece for Hezbollah, that was broadcast Thursday.
A Lebanese pro-Hezbollah newspaper, al-Akhbar, had reported Thursday that Assad would confirm the delivery of the first shipment of Russian S-300 air defense missiles in the prerecorded interview, though Israeli defense experts had raised doubts about the arrival of the missiles.
Israeli officials have indicated that they would act to ensure that the missile system, which has a range of about 130 miles — the distance from Damascus to Tel Aviv — does not become operational.
But Assad was vague during the televised interview about whether the first shipment of the missiles had been delivered. He said he was “committed” to fulfilling existing contracts and, when asked specifically where the shipment was, said, “Everything we agreed upon with Russia will be done; and a part [of those contracts] has already been completed lately.”
Earnest said he could not confirm whether a transfer of weapons had taken place, adding: “We have long made clear that we are concerned about the Russian support for the Assad regime.”
Recent efforts to funnel more weapons to the battlefield have caused both sides to harden their positions — each citing the moves as evidence that the other is not serious about meaningful negotiation.
Despite Russia’s work with the United States to get talks started, and calls from the United States, Israel and France to halt the sale, Moscow pledged to go ahead with plans to send Assad, a longtime ally in the region, one of the most advanced surface-to-air missile systems in the world. At the same time, the European Union’s decision Monday to let a weapons embargo on Syria lapse opened the door to the possibility of Britain and France arming the rebels. 
Israel is said to have carried out several airstrikes in recent months on Syrian targets, including a convoy that U.S. officials said was suspected to be transferring weapons to Hezbollah. The potential delivery of S-300 missiles to Syria threatens Israel’s ability to carry out such operations and has raised fears among Israelis that the technology could be passed to Hezbollah.
Michael Herzog, a retired brigadier general in the Israel Defense Forces, said the Russians would probably ship the S-300 system piecemeal. “It would take many months for everything to arrive, and then they would have to assemble it,” he said.
Even after its delivery, it would take the Syrians at least three to six months to learn how to operate the system, said Yiftah Shapir, director of the military balance project at the Institute for National Security Studies in Tel Aviv, who has studied the S-300 extensively.
“It is highly doubtful that the Syrian army, in its current situation, is able to invest the man­power and resources” to learn how to use the S-300, he wrote recently.
“Maybe nothing has arrived, and maybe something has arrived,” Herzog said. “But the important thing for Israel is that the Russians say they are sending it. This is a strategically significant weapon that changes the equation in very dangerous ways. It cannot be ignored.”
Israeli Prime Minister Benjamin Netanyahu met with Russian President Vladimir Putin in the Black Sea resort of Sochi this month to dissuade him from selling advanced antiaircraft missile batteries to Syria.
Israeli national security adviser Yaakov Amidror said at a meeting of 27 European Union ambassadors this week that Israel would not try to stop the delivery of the S-300s but would attempt to stop the state-of-the-art system from being made operational, according to an account in the Israeli newspaper Haaretz.
The S-300 battery is similar to the Patriot system used by the U.S. military and is capable of tracking and striking multiple targets simultaneously. Depending on the model, it can fire highly accurate missiles with ranges of more than 100 miles.
Booth reported from Jerusalem. Ahmed Ramadan in Beirut contributed to this report

স্ট্রোকের প্রাথমিক চিকিত্সা হিসেবে ব্যবরিত হবে স্টেম সেল 


গবেষকেরা প্রস্তাব করছেন, স্ট্রোকের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্টেম সেল দেয়া হলে আরোগ্য লাভে সহায়তা করতে পারেস্টেম সেলকে দেহের প্রভু কোষ(master cell) হিসেবে ধরা যায় কারণ এটি বিভিন্ন ধরণের কোষে রূপান্তরিত হতে পারেতাছাড়া তাত্ত্বিকভাবে রোগ বা দুর্ঘটনার কারণে হারানো কোষসমূহকে প্রতিস্থাপন করতে পারে

স্ট্রোক করা ইঁদুরকে স্ট্রোকের ত্রিশ মিনিটের মধ্যে স্টেম সেল ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হলে তা পনের দিনের মধ্যে প্রায় স্বাভাবিক অবস্থার মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ফিরে পায়বলিভিয়ান গবেষকেরা ধারণা করেন যে এই নতুন পদ্ধতি মানুষের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবেএক্ষেত্রে বর্তমানে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে স্ট্রোক পরবর্তী সুবর্ণ সময়েজমাট খোলার বিভিন্ন ধরণের ওষুধ ব্যবহার করা

Stem cell research and therapy নামক জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাপত্র ও অন্যান্য গবেষণা এই দিকেই নির্দেশ করে যে স্ট্রোকের রোগীদের চিকিৎসায় স্টেম সেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেদেহের কোষসমূহের ক্ষত মেরামত করতে স্টেম সেল অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেসাম্প্রতিক পরীক্ষা মানুষকে আশার বাণী শুনাচ্ছেএ ক্ষেত্রে স্টেম সেলের অনুপ্রবেশের পর স্ট্রোকের উপসর্গ হ্রাস পেয়েছে


লা পায হাসপাতালের এক দল বলিভিয়ান গবেষকেরা চর্বি ও মেরুরজ্জু থেকে এক ধরনের স্টেম সেল নিষ্কাশন করেনঅতঃপর তারা কৃত্রিমভাবে ইঁদুরদের স্ট্রোক করানোর কিছুক্ষণের মধ্যে এ কোষ তাদের দেহে অনুপ্রবেশ করানযদিও এ অনুপ্রবেশিত কোষ মস্তিষ্কের আক্রান্ত স্থানে যেতে দেখা যায়নি, তবুও এ ইঁদুরগুলোর অবস্থা অন্য যে সকল ইঁদুরে স্টেম সেল দেয়া হয়নি তাদের চেয়ে ভাল ছিল২৪ ঘণ্টার মধ্যে তারা দ্রুত আরোগ্য লাভের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলআর দুই সপ্তাহের মধ্যে তারা আচরণের পরীক্ষায় প্রায় স্বাভাবিক আচরণ করে

গবেষকেরা বলেন, কলার বৈশিষ্ট্যমূলক শৃঙ্খল বিক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষতি স্ট্রোকের কারণ হয়ে দাড়ায়প্রাথমিক ক্ষতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার আশেপাশের কোষেরও ক্ষতি হয়প্রাথমিক পর্যায়ে যদি এই স্টেম সেলের প্রয়োগ করা হয় তবে এই বিক্রিয়া বাধাগ্রস্থ করা যেতে পারেড. এক্সুপেরিও ডিএজ-তেজেডর এই গবেষণার নেতৃত্ব দেনতার ভাষ্যমতে, “স্টেম সেল এর প্রয়োগের ফলে আরোগ্য লাভে উন্নতি হয়তবে এ ক্ষেত্রে স্টেম সেলের কার্যকারিতা এর উৎসের উপর নির্ভর নয়ইহা মানুষের ক্ষেত্রে ব্যবহারের সময় উপকারী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে

প্রচুর পরিমাণে থাকা এবং কোনোরূপ সার্জারি ব্যতীত সহজে এই সব এডিপোস(চর্বি)হীনকোষ সংগ্রহ করা সম্ভবএখন সপ্তাহ কিংবা ঘণ্টার মধ্যে নয়, ক্ষতিসম্পন্ন হবার কয়েক মিনিটের মধ্যে চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা সম্ভব হয়কারণ শুধুমাত্র ইঁদুর নয়,অন্যান্য প্রাণীদের দেহ থেকে সহজে সংগ্রহ করে কালচার করা সম্ভব এই সব এলোজেনিককোষতারা বলেন, “চিকিৎসীয় পরিভাষার দিক থেকে এলোজেনিক স্টেম সেল সুবিধাজনককারণ এইসব কোষ তরুণ স্বাস্থ্যবান দাতাদের কাছ থেকে এ কোষ সংগ্রহ করে তা সম্প্রসারণ ও সঞ্চয় করে স্ট্রোক পরবর্তী প্রয়োজনের সময়ে ব্যবহার করা যেতে পারেতাদের প্রস্তাব করেন যে মানুষের ক্ষেত্রে দাতা কোষের অনাক্রম্য অগ্রাহ্যতার ঝুঁকি কাটিয়ে উঠা হয়ত সম্ভবতবে স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশন এর একজন ভাষ্যকারের মতে নিকট ভবিষ্যতে এই পদ্ধতি মানুষের জন্য ব্যবহার সম্ভব হবেনাড. ক্লেইর ওয়াটসন বলেন, “স্ট্রোকের গবেষণার ক্ষেত্রে স্টেম সেল অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি ক্ষেত্রস্ট্রোক হতে উত্তরণের জন্য এই গবেষণা অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেতবে মানুষের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য আরও অনেক গবেষণা প্রয়োজন

মানুষের  ভবিষ্যত প্রতিদ্বন্দী


দেড়শ বছর আগের কথাই ধরা যাক। তখন কি মানুষ কল্পনা করতে পেরেছিল লোহালক্কর দিয়ে তৈরি মানুষ হাঁটবে, কথা কইবে, কাজ করবে? যদি বলি ‘হ্যাঁ পেরেছিল তাহলে কি আপনার চোখ কপালে উঠবে? দরকার নেই। সবাই সে চিন্তা করেনি। তবে চিন্তা করেছিলেন কিছু সায়েন্স ফিকশন লেখক আর স্বপ্নবিলাসী বিজ্ঞানী। সিক্স মিলিয়ন ডলার ম্যান, রোবোকপের মতো দুনিয়া কাঁপানো সায়েন্স ফিকশনের মূল চরিত্র কিন্তু রোবট নয়, যন্ত্র মানবের আড়ালে সেখানে কাজ করেছে বাস্তব মানুষের মস্তিষ্ক। তবে সত্যজিৎ রায়ের অমর সৃষ্টি প্রফেসর শঙ্কু-র তৈরি রোবট বিরাট আকারের বিধুশেখরের জৈব মস্তিষ্ক না থাকলেও সে মানুষের কথা বলতে পারত। মানুষের কথা বুঝার ও চিন্তা করার শক্তিও তার ছিল। পরবর্তীকালে সায়েন্স ফিকশনে এসেছে আমূল পরিবর্তন। রোবট আর রোবট থাকেনি, রীতিমতো মানুষ হয়ে উঠেছে। আধুনিক সায়েন্স ফিকশনগুলোতে মানুষ আর রোবটকে আলাদা করে চিহ্নিত করাই মুশকিল। 

এতে গেল সায়েন্স ফিকশনের কথা। বাস্তব জগতেই খুঁজে দেখা যাক না রোবটের কী অবস্থা? মাঝে মাঝেই পত্রিকায় খবর আসে জাপানে নাকি কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের রিসিপসনিস্ট রোবট; রোবট মডেল, রোবট ওয়েটারের দেখা মেলে।

রোবটের বিবর্তনের ইতিহাসে একটু চোখ রাখা যাক। ১৮১৪ সালে মেরী শেলীর ফ্রাঙ্কেনস্টাইন অর মর্ডান প্রমিথিউস সায়েন্স ফিকশনে ড. ফ্রাঙ্কেলস্টাইন কৃত্রিম মানুষ তৈরি করতে গিয়ে এক ভয়ংকর দানব তৈরি করে ফেলেন। কিন্তু সত্যিকার অর্থে যাকে রোবট বলে তার জন্ম বিংশ শতাব্দিতেই। ১৯১৩ সালে আমেরিকার স্পেরি জহিরোস্কোপ কোম্পানি প্রথম সফল ভাবে রোবট তৈরি করেন। সেই রোবট দুনিয়াব্যাপী সাড়া জাগাতে পারেনি। ১৯৮৪ সালে ব্রিটিশ আবিষ্কারক উইলিয়াম গ্রে ইলেকট্রিক পার্টস দিয়ে এলমার এবং এলিম নামে দুটি রোবট তৈরি করে। ১৯৫৬ সালে জর্জ ডেভল এবং জোসেফ এনজেলবার গড়ে তোলেন বিশ্বের প্রথম রোবট উৎপাদক কোম্পানি স্কুল। ১৯৭০ সালে রোবট প্রভূত উন্নতি ঘটে। রোবট দিয়ে মোটর কারখানায় ওয়েলডিং ও রং করার কাজ করানো হয়। ১৯৮০ সালে ৮০০০ উন্নত কম্পিউটার উৎপাদন করা হয়। এ ধরনের রোবট যেমন নিজেই নিজেকে নির্দেশনা দিতে পারে তেমনি প্রদত্ত কমান্ড মনেও রাখতে পারে। ১৯৯০ সালে আমেরিকান জেনারেল মোটর কোম্পানি ইলেট্রনিক চোখযুক্ত রোবট তৈরি করেন। 

বর্তমানে রোবটের এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে মানুষ আর রোবটকে আলাদা করা দায়। এর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা জাপানী বিজ্ঞানীদের। আজকাল ক্রিড়াঙ্গনেও ঢুকে গেছে রোবট। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে রোবট পাড়ি দিচ্ছে মহাকাশেও। রোবট নিয়ে এই যে এতো মাতামাতি সে রোবট শব্দটি কোনো বিজ্ঞানীর মুখ থেকে প্রথম বেরোয়নি। ১৯২১ সালে ব্যারেল কেপেক নামে এবং নাট্যকার তার নাটকে রোবট শব্দটা ব্যবহার করেন। পৃথিবীর প্রথম সায়েন্স ফিকশন মেরি শেলির ফ্যাঙ্কেনস্টাইন-এর কাহিনিতে ফ্যাঙ্কেনস্টাইন নামের এক রোবট বিজ্ঞানী তৈরি করতে গিয়ে দূর্ঘটনাবশত তৈরি হয়ে যায় এক দানব। সেই রোবট নিজের অধিকার আদায়ে ব্যর্থ ধ্বংসযজ্ঞে মেতে ওঠে। নিজের প্রাণ দিয়ে নিজের অদূরদর্শি আবিষ্কারের মাশুল গুণতে হয় ফ্রাঙ্কেইন স্টাইনকে। 

আজকের পৃথিবীতে রোবটের উন্নতি সাধনে দুনিয়াব্যাপী প্রযুক্তিবিদরা যেভাবে আদাজল খেয়ে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছেন তাতে ভবিষ্যতে অবিকল সানুষের মতো জৈব কাঠামোর রোবট তৈরি হওয়া আস্বাভাবিক কিছুই নয়। তখন যদি কোনো রোবট সম্প্রাদায় মনিবদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় তখন মানবজাতির কী অবস্থা হবে ভাবা যায়!

 সংলাপ হবে, হবে না!


একানব্বইয়ের নির্বাচনে জেতার পর খালেদা জিয়ার প্রথম শাসনামলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী 'আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়ে গেছে' বলে মন্তব্য করে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলেন। বাবার কোলে শিশু নওশিন সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার পর শোকাহত পিতাকে সান্ত্বনা জানাতে গিয়ে তিনি ওই উক্তি করেছিলেন। বেগম জিয়ার দ্বিতীয় মেয়াদের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের 'উই আর লুকিং ফর শত্রুজ'ও যথেষ্ট রসাত্দক উক্তি ছিল। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার গঠনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রথমে পেয়েছিলেন সাহারা খাতুন। তিনি ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার সময় ঘরে তালা লাগিয়ে যাওয়ার কথা বলে আলোচিত হয়েছিলেন। এরপর বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর রানা প্লাজা ধসের জন্য স্তম্ভ ধরে নাড়াচাড়া করাকে দায়ী করে কৌতুক-রসের জোগান দিয়েছেন। প্রশ্ন উঠছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলেই কি হাস্যকর কথা বলতে হবে? অবশ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আরও কোনো কোনো মন্ত্রী এমন সব কথা বলছেন, যা সরকারের জন্য প্রীতিকর হচ্ছে না। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার কথা বলে আসছে। তবে হরতালসহ নানা কর্মসূচি পালন করেও সরকার পতনের আন্দোলন জোরদার করতে পারেনি বিএনপি এবং তার সঙ্গীরা। তবে বিএনপির আন্দোলন সহযোগী জামায়াতে ইসলামী যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত তাদের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দণ্ড ঘোষণার পর সারা দেশে যে তাণ্ডব চালিয়েছে তাতে সরকার কিছুটা চাপের মধ্যেই পড়েছিল। জামায়াত-শিবিরের হামলা মোকাবিলায় সরকার যথেষ্ট সাফল্য দেখিয়েছে বলে মনে করা যায় না। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দেশজুড়ে জীবন ও সম্পদের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা একেবারে কম নয়। একটি বিষয় লক্ষণীয়, বিরোধী দল আন্দোলন করে এ পর্যন্ত সরকারকে যতটা না বেকায়দায় ফেলতে সক্ষম হয়েছে, তারচেয়ে ঢের বেশি বেকায়দায় ও বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছেন কয়েকজন মন্ত্রী বিভিন্ন সময় আবোল-তাবোল কথা বলে। লাগামহীন বক্তব্য দেওয়া বা অতিকথন শুরু করেছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান। পরে এই তালিকায় নৌমন্ত্রী শাজাহান খানসহ আরও কয়েকজন যুক্ত হয়েছেন। সর্বশেষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। দেখা যাচ্ছে শেখ হাসিনার তিন খান_ ফারুক খান, শাজাহান খান, মহীউদ্দীন খান সরকারকে বিব্রত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছেন। রাজধানীতে কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ করতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর সরকারকে বড় ধরনের বেকায়দায় ফেলেছেন। কেবল বিরোধী দল নয়, নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকেও কঠোর ভাষায় সরকারের এই অবস্থানের সমালোচনা করা হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ উপায়ে সভা-সমাবেশ করা যে কোনো মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার কেড়ে নেওয়া তো রীতিমতো সংবিধান লঙ্ঘন করা। এটা গুরুতর অপরাধ। এই অপরাধ করে কোনো মন্ত্রী কিংবা সরকারও পার পেতে পারে না।

একমাত্র জরুরি অবস্থা জারি হলেই এই অধিকার স্থগিত করা যায়। দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়নি, এটা আমরা সবাই জানি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যেসব দল অনুমতি নিয়ে সমাবেশ দুর্বৃত্তদের হাতে তুলে দেয় এবং জনসাধারণের ওপর অন্যায়-অত্যাচার ও জ্বালাও-পোড়াও করে তাদের আগামী এক মাস সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না। এই এক মাসের সময়সীমা কবে থেকে শুরু হয়েছে এবং কবে শেষ হবে সেটা অবশ্য মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেননি। প্রশ্ন হচ্ছে, এক মাস পর এরা ভালো হয়ে যাবে, আর জ্বালাও-পোড়াও-ভাঙচুর করবে না_ এই গ্যারান্টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কে দিয়েছে? একই সঙ্গে জানতে ইচ্ছা করে এতবড় একটা সিদ্ধান্ত কি তিনি একাই নিয়েছেন? এ ব্যাপারে সরকারের নীতিনির্ধারকরা কি একমত পোষণ করেন? যদি আলাপ-আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে তাহলে এ নিয়ে একেক মন্ত্রী একেকরকম ব্যাখ্যা দিচ্ছেন কেন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও এর যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে তিন রকম বক্তব্য দিয়েছেন। যদি ধরে নেওয়া হয় 'জনগণের ওপর অন্যায়-অত্যাচার ও জ্বালাও-পোড়াও' করায় সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণ হয়ে থাকে তাহলে প্রশ্ন আসে যারা এটা করছে তাদের ওপর শর্তসাপেক্ষে নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করে ঢালাওভাবে সবার ওপর এ ধরনের অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া কেন? একজন শান্তিভঙ্গ করেছে বা করবে_ এই আশঙ্কায় অন্যজনের অধিকার কেড়ে নেওয়ার স্বেচ্ছাচারিতা কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না, মেনেও নেওয়া যায় না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় মহাসেনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণকার্য পরিচালনার সুবিধার্থে এক মাস সভা-সমাবেশ করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে দারুণ সাফাই ব্যাখ্যা দিয়েছেন সরকারি দলের সাধারণ সম্পাদক! কিন্তু তার এই ব্যাখ্যা দেশবাসীকে সন্তুষ্ট বা আশ্বস্ত কোনোটাই করতে পারেনি। বরং এসব হাস্যকর বক্তব্য সরকারের উদ্দেশ্যের সততাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় অঞ্চল। আর ত্রাণকাজে সুবিধার জন্য ঢাকায় সভা-সমাবেশ করা যাবে না! ছেলে ভোলানো কথা বলে লোক হাসানোর পথ অবিলম্বে পরিহার করা উচিত। দেশের মানুষ এসব ছেলেমানুষি একেবারেই পছন্দ করে না।

এটা ঠিক, সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠানের নামে সাম্প্রতিক সময়ে দেশে মারাত্দক সব আইনবিরোধী ঘটনা ঘটেছে। শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয়েছে। সাধারণ মানুষ অসহায় ও আতঙ্ক বোধ করেছে। বিশেষ করে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির এবং হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ থেকে একাধিকবার বড় ধরনের হিংসাত্দক ঘটনা ঘটেছে। জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এমনকি শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীর সদস্যদের ওপরও আক্রমণ করা হয়েছে। তাদের অস্ত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছে, মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে। এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনো বিবেচনায়ই গণতন্ত্রসম্মত নয়। গণতন্ত্রের নামে এসব কার্যকলাপ চলতে পারে না। কোনো গণতান্ত্রিক দেশেই এসব অপরাধমূলক কাজ চলতে দেওয়া হয় না। সভা-সমাবেশ যাতে শান্তিপূর্ণ হয় তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। বিএনপি-জামায়াত-শিবির কিংবা হেফাজতের সমাবেশ শান্তিপূর্ণ হবে_ এই অঙ্গীকার করেই সমাবেশের অনুমতি নিয়ে তারা কথা রাখেনি, অঙ্গীকারের খেলাপ করেছে। যারা অঙ্গীকার খেলাপি তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করলে কারও কিছু বলার থাকে না। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক মাস কাউকেই সমাবেশ করতে না দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাতে লাভ হয়েছে বিরোধী পক্ষের, ক্ষতি হয়েছে সরকারের। অন্যের যাত্রাভঙ্গ করে নিজের নাক কাটা একেই বলে!

হেফাজতের ঢাকা অবরোধকে কেন্দ্র করে ৫ ও ৬ মে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে যে ধ্বংসযজ্ঞ চলেছে, তাতে কেবল হেফাজত নয়, বিএনপি এবং জামায়াত-শিবিরও যথেষ্ট কোণঠাসা অবস্থায় পড়েছিল। তাদের এ আচরণ কতটুকু গণতান্ত্রিক এবং এসব ধ্বংসাত্দক কর্মকাণ্ড অবাধে চলতে দেওয়া যায় কিনা, সে প্রশ্ন এখন মানুষের মনে প্রবল হয়ে উঠছে। তাদের নৈতিক অবস্থান যখন দুর্বল হয়ে পড়েছে তখনই যেন তাদের উদ্ধারে এগিয়ে এলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিএনপি-জামায়াতের সমর্থন নিয়ে হেফাজতে ইসলাম দেশের ভেতর যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছিল, তা নিয়ে কথা না বলে এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তুঘলকি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই কথা বলছেন অনেকে। সাভারের রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর ভবনের স্তম্ভ ধরে নাড়াচাড়া করায় ভবন ধসের একটি কারণ হতে পারে বলে বালখিল্য মন্তব্য করে হাসির পাত্র হয়েছিলেন। তার এই উদ্ভট তত্ত্ব অনেককেই ক্ষুব্ধ করেছিল। প্রশ্ন উঠেছিল তার বিচারবুদ্ধি নিয়েও।

ওই বক্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই এক মাসের জন্য ঢাকায় সভা-সমাবেশ করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তির ওপর যে কালিমা লেপন করলেন তা এক কথায় অমোচনীয়। সাহারা খাতুনকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে দায়িত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়তো আশা করেছিলেন একজন সাবেক আমলা এবং তার আগের আমলের প্রতিমন্ত্রী এবার পূর্ণমন্ত্রী হয়ে দক্ষতা ও যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে সরকারের মেয়াদের শেষ দিনগুলো নির্বিঘ্ন করে তুলবেন। কিন্তু হায়। জিয়ার খাল কাটা বিপ্লবের সারথি কী শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি উজ্জ্বলে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারেন? ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের কারণেই শেষ সময়ে সরকারকে না জানি আরও কত হোঁচট খেতে হয়।

বর্তমান সময়টা সরকারের জন্য খুব সুবিধার নয়। সরকারের মেয়াদকাল শেষ হয়ে আসছে। আর মাত্র কয়েক মাস পরই সরকারকে ক্ষমতা ছেড়ে নতুন নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে। সেই নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে চরম বিরোধ চলছে। অনেকেই মনে করেন শেষ পর্যন্ত এই বিরোধের হয়তো সম্মানজনক নিষ্পত্তি হবে না। যদি তাই হয় তাহলে দেশে আদৌ নির্বাচন হবে কিনা সেটা প্রশ্ন হয়ে উঠছে। কেউ মনে করেন আওয়ামী লীগ বিএনপিকে নির্বাচনী দৌড় থেকে বাইরে রাখতে চায়। কারণ মানুষ নানা কারণে সরকারের প্রতি কিছুটা অসন্তুষ্ট আছে। ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে তারা সরকারের বিরুদ্ধেই রায় দিতে পারে। আবার এমন কথাও শোনা যায় পরিস্থিতি যাই হোক না কেন বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেবে। নির্বাচনে অংশ না নিলে বিএনপির অস্তিত্বই সংকটের মুখে পড়বে। অন্যদিকে এমন মতও কেউ কেউ পোষণ করেন বিএনপি বর্তমানে যেভাবে জামায়াত ও হেফাজতের ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করছে সেটা দেশের অধিকাংশ মানুষই সহজভাবে মেনে নিতে পারছে না। সরকারের ভুল-ত্রুটি আছে। সে জন্য মানুষের মনে যেমন ক্ষোভ আছে, তেমনি বিরোধী দলের প্রতিও মানুষের পূর্ণ আস্থা ও সমর্থন নেই। কাজেই পরবর্তী নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করবেই, এটা নিশ্চিত করে বলার মতো অবস্থা দেশে বিরাজ করছে না। সব মিলিয়ে রাজনীতিতে চলছে এক ধরনের রৌদ্র-মেঘের খেলা। একবার মনে হচ্ছে সরকার এবং বিরোধী দল পয়েন্ট অব নো রিটার্নে গিয়ে দেশকে চূড়ান্ত সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আবার মনে হচ্ছে সংলাপের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত বুঝি প্রধান দুই দল একটি সমঝোতায় পেঁৗছতে সক্ষম হবে। কেউ বলছেন, সংলাপ হবে এবং এটা হতেই হবে। আবার কেউ বলছেন সংলাপ হবে না। দুই দল যদি জয়ের লক্ষ্যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজয়কে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়ার মানসিকতা নিয়ে অগ্রসর হতো তাহলে সংলাপ সহজ হতো। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, দুই দলই জয় চাচ্ছে। অথচ নির্বাচনে একই সঙ্গে দুই দলের জয়লাভের কোনো সুযোগ নেই। দুই দলের মধ্যে যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছে তার পরিণতি কোথায় গিয়ে শেষ হবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। সরকার যেমন খুব ভালো অবস্থানে নেই, তেমনি বিরোধী দল খুব ভালো আছে সেটাও বলা যাচ্ছে না। তাই একবার সংলাপ হবে বলে মনের মধ্যে আশা জাগছে আবার পরক্ষণেই সংলাপ হবে না বলে হতাশার অন্ধকার নেমে আসছে দেশবাসীর সামনে। এই আলো-আঁধারি থেকে সত্যি মুক্তি মিলবে কি?